মতলব দক্ষিণ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী আধারা উচ্চ বিদ্যালয়। উপজেলার উত্তর সীমান্তের অনেকটা পশ্চিম পাশ ঘেঁষে যার অবস্থান। উপজেলার নায়েরগাঁও -পিতাম্বর্দি সড়ক থেকে সামান্য উত্তর পাশে আধারা গ্রামে ১৯৭৩ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। বিদ্যালয়ের পাশেই রয়েছে চুনু মার্কেট এবং আধারা গ্রামের নামে বিদ্যালয়টির নামকরণ করা হয়। বিদ্যালয়েটি, আধারা, নাউজান, পেয়ারীখোলা সহ আশপাশের এলাকায় শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে যারা অর্থ, মেধা ও সম্পত্তি দিয়ে সহযোগিতা করেছেন তারা হলেন : মোঃ আইউব আলী । এ ত্যাগী ব্যক্তির অনুদানের ফলে আধারা উচ্চ বিদ্যালয় বিদ্যালয়ের জমির পরিমাণ ১ একর সাড়ে ২০ শতাংশ। ১৯৭৩ সালে বিদ্যালয়টি ৬ষ্ঠ থেকে ১০ম শ্রেণী পর্যন্ত চালু করা হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বিদ্যালয়টি যোগ্য, দক্ষ এবং পরিশ্রমী শিক্ষকদের আন্তরিকতা আর বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সহযোগিতায় সাফল্যের স্বাক্ষর রেখে চলেছে।
সাফল্যের ধারা অব্যাহত রাখতে আধারা উচ্চ বিদ্যালয়ের ফলাফলের দিক থেকে এ বিদ্যালয় বরাবরই সাফল্যের স্বাক্ষর রেখে চলেছে।
সীমাহীন সমস্যার মাঝেও সাফল্যের ধারা অব্যাহত রাখার জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ ইসহাক গাজী। তিনি সবসময়ই ছাত্র-ছাত্রী ও শিক্ষকদের মাঝে অভিভাবকের মতো থাকতে চান। জীবনের সবটুকু সামর্থ্য বিলিয়ে দিয়ে এ বিদ্যালয়ের সাফল্যকে সবার শীর্ষে নিয়ে যেতে চান। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সকল সদস্য এবং শিক্ষকগণ বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখতে সভাপতি ও প্রধান শিক্ষককে সার্বক্ষণিক সহযোগিতা করে যাচ্ছেন। শিক্ষার মান নিশ্চিত করতে শিক্ষক, অভিভাবক ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির নিয়মিত তথ্য বিনিময়ের প্রতি সবসময়ই গুরুত্ব দিয়ে থাকেন সভাপতি মোঃ হারুনুর রশিদ । ফলে বেগবান হচ্ছে এ বিদ্যাপীঠের অগ্রযাত্রা। সঠিকভাবে সকলের সহযোগিতায় পরিচালনা কমিটি অবদান রাখতে পারলে বিদ্যালয়টি আরো অনেক দূর এগিয়ে যাবে বলে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষানুরাগী মহল মনে করে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ ইসহাক গাজী জানান, শিক্ষার গুণগত মান উন্নত করে তিনি তার বিদ্যালয়কে পর্যায়ক্রমে কুমিল্লা বোর্ডের অন্যতম একটি উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিণত করবেন। এ মহৎ কাজটি সম্পন্ন করতে তিনি এলাকার সকল স্তরের মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন। এর জন্য তিনি প্রতিটি কাজের ইতিবাচক দিক নিয়ে এগিয়ে যেতে চান।
প্রধান শিক্ষক মোঃ ইসহাক গাজী আরো বলেন, সরকার এসএসটিটিআই-এর মাধ্যমে বিষয় ভিত্তিক শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছে। আমাদের শিক্ষকগণও সেখানে গিয়ে নতুন নতুন পাঠ কৌশল রপ্ত করছেন। এর ফলাফল ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে কার্যকরভাবে প্রয়োগ করতে পারলে শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশ ও সাফল্যের ধারা প্রবাহমান থাকবে। এছাড়া তিনি বলেন, বিদ্যালয়ের ভালো ফলাফলের জন্য শিক্ষকদের সহযোগিতায় অতিরিক্ত ক্লাসের ব্যবস্থা রয়েছে। শিক্ষা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের আন্তরিক প্রচেষ্টায় এ বিদ্যালয়ের সুনাম ধারাবাহিকভাবে অব্যাহত থাকুক শিক্ষকতা জীবনের এ প্রান্তে এসে এটাই আমার একমাত্র চাওয়া।